Need further support?
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা শিশুদের জন্য পরামর্শ
(Advice for children with constipation, Bengali translation)
অন্ত্র কীভাবে কাজ করে?
- আমরা যা খাবার খাই সেটা গিয়ে পেটে মিশে যায় এবং একটি স্যুপের মতন মিশ্রণে পরিণত হয়।
- তারপর এটা ছোট অন্ত্রে যায়, যেখানে সমস্ত পুষ্টিকর পদার্থগুলোকে (ভালো জিনিস) বার করে নেওয়া হয় এবং সেটা শরীরের দ্বারা ব্যবহার করা হয় যাতে আমরা সুস্থ থাকি।
- বড় অন্ত্র দিয়ে যাওয়ার সময়, জল শোষণ করা হয় এবং মল একটি মসৃণ সসেজ আকারে পরিণত হয় যাতে সেটাকে শরীর থেকে ত্যাগ করা যেতে পারে।
- প্রত্যেক বার অন্ত্রের পেশীতে মোচড় দিলে বড় অন্ত্রে মলটি কিছুটা এগিয়ে যায়।
- মল যখন গিয়ে মলদ্বারে মানে রেকটামে পৌঁছায়, তখন মলদ্বার প্রসারিত হয় (মানে মলদ্বার স্ট্রেচ করে) যেটা আমাদের মস্তিষ্ককে এই সংকেত পাঠায় যে আমাদের মলত্যাগ করার প্রয়োজন রয়েছে।
কি ভুল হতে পারে?
- আমরা যদি এই বার্তার প্রতি সাড়া না দি, তাহলে মলটি সেখানে থেকে যায়।
- অন্ত্রের পেশীগুলোতে মোচড় দিতে থাকে সুতরাং আরও মল এসে জমা হয়, আর বড় অন্ত্রে মলের মাত্রা বাড়ার কারণে আরও জল শোষণ করা হয়, এবং মলটি আরও শক্ত হয়ে যায় আর আঁটকিয়ে যায়।
- মস্তিষ্ককে এই বার্তাগুলো শুধুমাত্র তখনই পাঠানো হয় যখন মলদ্বার প্রসারিত হয়। যদি এটি প্রসারিত থাকে তাহলে আপনার যে মলত্যাগ করার প্রয়োজন রয়েছে তা জানানোর জন্য আপানকে আর কোনো নতুন বার্তা পাঠানো হবে না।
- খুবই শীঘ্রই, আপনার মল আঁটকিয়ে যাবে ধরুন একটি ট্রাফিক জ্যামের মতন, যেটা কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন নামেও পরিচিত।
শিশুদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য খুবি সাধারণ, এবং 3 জন শিশুর মধ্যে 1জন এতে প্রভাবিত হয়, এমনকি খুবই অল্প-বয়সী শিশুরাও। এটা যে নিজে ভালো হয়ে যাবে তার অপেক্ষা করবেন না। এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন!
শিশুর যে কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তা আপনি কীভাবে বলতে পারেন?
- শিশুদের প্রত্যেক দিন অথবা কমপক্ষে এক দিন অন্তর নরম মলত্যাগ করা উচিত।
- 1-3 ধরনের মলত্যাগ করার মানে হল যে মল ট্র্যাফিক জামে বসে রয়েছে।
- সপ্তাহে 4 বারের চেয়ে কম মলত্যাগ করার মানে হল যে মল ট্র্যাফিক জামে বসে রয়েছে।
- দিনে 3 বারের চেয়ে বেশি মলত্যাগ করা একটি চিহ্ন হতে পারে যা ইঙ্গিত করে যে অন্ত্র ভরা রয়েছে এবং সেটা কিছু-কিছু সময় বেরিয়ে আসছে।
- নোংরা হওয়া – এটা হয়তো শক্ত টুকড়ো, নরম পদার্থ কিংবা তরল ও হতে পারে যেটা ট্র্যাফিক জাম থেকে চুইয়ে বেরিয়ে আসে, এটাকে ওভারফ্লো বলা হয়। এর উপর শিশুর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
- বড় আকারের মল, কিংবা এক সময়ে মাত্রাধিক মলত্যাগ।
- পেটে ব্যথা কিংবা মলত্যাগের সময় ব্যথা।
- স্ফীত/ফোলা পেট।
- খুবই দুর্গন্ধযুক্ত মল/বায়ু কিংবা মুখে দুর্গন্ধ।
- তাদের হয়তো খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যেতে পারে কিংবা তাদের হয়তো বমি-বমিভাব ও হতে পারে।
- ভর্তি অন্ত্র হয়তো মূত্রথলির উপর চাপের সৃষ্টি করতে পারে এবং তার কারণে হয়তো প্রায়শই অল্প-অল্প প্রস্রাব করা/প্রস্রাব করার তীব্র ইচ্ছা /দিনের বা রাতের বেলায় কাপড়-জামা কিংবা বিছানা ভিজে যাওয়া/মূত্রনালীর সংক্রমণ হতে পারে।

এর মধ্যে শুধুমাত্র 2টি উপসর্গ থাকার মানে হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য!
কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা কীভাবে করবেন
- 2 সপ্তাহের জন্য একটি মলের ডায়েরি রাখুন: সেটা কেমন দেখতে, কতোটা, কোথায় যায়।
- আপনার জিপি-র সাথে দেখা করুন: মলের ডায়েরিটিকে সঙ্গে করে নিয়ে যান এবং তাদেরকে আপনার শিশুর উপসর্গসমূহ বলুন
- জিপি আপনার শিশুকে পরীক্ষা করবেন এবং প্রশ্নাদি জিজ্ঞাসা করবেন যাতে তিনি সন্ধান করতে পারেন যে কোষ্ঠকাঠিন্য কি কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার জন্য দেখা দিচ্ছে
- জিপি আপনাকে মুভিকল, ল্যাক্সিডো বা কস্মোকলের মতন একটি ম্যাক্রোগোল ল্যাক্সেটিভ প্রেসক্রাইব করবেন যেটা মলকে নরম করে এবং মলত্যাগে সাহায্য করে (NICE দিকনির্দেশ হিসেবে)
ল্যাক্সেটিভ নেওয়া
- ম্যাক্রোগোলকে প্রথমে সঠিক পরিমাণ জলে মেশাতে হবে, কিন্তু তারপর অন্যান্য খাবার/পানীয় যোগ করা যেতে পারে – পড়ুন: How to use macrogol laxatives. (ম্যাক্রোগোল ল্যাক্সেটিভ কীভাবে ব্যবহার করবেন)
- বেশির ভাগ শিশুরা ডিসইম্প্যাকশন দিয়ে শুরু করে – এর মানে হল জমা বা আঁটকে থাকা মলত্যাগ করার জন্য প্রচুর ওষুধ নেওয়া – পড়ুন: A Parent’s Guide to Disimpaction. (বাবা-মায়ের জন্য ডিসইম্প্যাকশনের নির্দেশিকা)
- অন্ত্র পরিষ্কার হলে তাদেরকে প্রত্যেক দিন অল্প একটি ডোজ নিতে হবে যাতে তাদের মল নরম থাকে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
- আপনার শিশুকে হয়তো দীর্ঘ সময় ধরে ল্যাক্সেটিভ গ্রহণ করা চালিয়ে যেতে হতে পারে কিন্তু উদ্বিগ্ন হবেন না, ল্যাক্সেটিভে ওদের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং দীর্ঘ মেয়াদে, কোষ্ঠকাঠিন্যের উপযুক্তভাবে চিকিৎসা না করা হলে সেটা ক্ষতিকর হতে পারে।
ঠিক সময় মলত্যাগ করা
- সঠিক সময় বাথরুমে যাওয়া – খাবার খাওয়ার 20 থেকে 30 মিনিট পর এবং রাতের
বেলায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে। - সঠিকভাবে বসা – পা সমতল রাখতে হবে এবং একটি বাক্স কিংবা স্টুলের সাহায্যে বসতে হবে, হাঁটুগুলো যেন কোমরের চেয়ে উঁচু থাকে। নিরাপদ বসার অবস্থা – তাদের হয়তো একটি শিশুদের জন্য তৈরি করা টয়লেট সিটের প্রয়োজন হতে পারে।
- মলত্যাগ করার জন্য রিল্যাক্স করতে হবে। সুতরাং টয়লেটের পাশে খেলনা,
গেমস ও বই রাখবেন।

প্রত্যেক বার টয়লেটে বসার সময়কে ‘সক্রিয়’ বানানোর চেষ্টা করবেন এবং বারে-বারে বিভিন্ন খেলা খেলবেন ও ব্যায়াম করবেন:
- দক্ষিণাবর্ত সার্কিলে পেটের মালিশ করা এবং টয়লেটে বসে থাকাকালীন সময় আগে ও পিছনে দোলা সত্যিই উপকারী হতে পারে।
- পেটের পেশী দিয়ে চাপ দেওয়ার জন্য সাহায্য হিসেবে হাঁসুন/কাশুন/ফুঁ দিন।
- এটাকে একটি মজার সময় করে তুলুন! আপনার শিশুকে অনুপ্রাণিত করার জন্য আরও আইডিয়া পেতে ERIC -এর Toileting Reward Chart (টয়লেটিং রেয়র্ড চার্ট) দেখুন। 10 - 15 মিনিটের জন্য টয়লেটে বসে থাকা যথেষ্ট হবে।
স্বাস্থ্যকর অন্ত্র উন্নত করা
- প্রত্যেক দিন আপনার শিশুকে 6-8 জল ভিত্তিক পানীয় পান করতে উৎসাহিত করুন।
- তাদের আহারে ফল ও শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।
- ব্যায়াম করা এবং আশে-পাশে চলা-ফেরা করুন!
আরও তথ্য
Last Reviewed: February 2024
Next Review: February 2027
On this page...
Upcoming events
Share this page
