রাতেরবেলা ওয়েটিংয়ের (ভেজানো) সমস্যা আছে এমন সব শিশুদের জন্য পরামর্শ

বেড ওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) শৈশবের একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যেটা 15 জন সাত বছর বয়সীদের মধ্যে 1 জন কে আর 75 জন কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে 1জন কে প্রভাবিত করে। এটা পরিবারে চলে, কিন্তু এতে কারো কোনো দোষ নেই।

বাড়তি বয়সের সাথে-সাথে যে আপনার শিশু এটা পেরিয়ে যাবে তার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না – 5 বছর বয়স থেকে চিকিৎসা উপলব্ধ রয়েছে ( NICE Guidelines অনুযায়ী)।

প্রথমত, আমাদেরকে সন্ধান করতে হবে যে আপনার শিশু কেন ভেজায় – বহু আলাদা-আলাদা কারণ রয়েছে এবং প্রত্যেকটির নিজস্ব বিশেষ চিকিৎসা আছে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে রাতেরবেলায় ওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) হতে পারে:

  • ভরা অন্ত্রটি পেটের মধ্যে সেই জায়গাটি নিয়ে নেয় যেখানে মূত্রথলি প্রসারিত হয়ে ভরা উচিত।
  • মূত্রথলির মধ্যে সম্পূর্ণ রাত্রিকালীন প্রস্রাবের পরিমাণ থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না, সুতরাং সেটা বেরিয়ে আসে।
  • বেডওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) বাদে কোষ্ঠকাঠিন্যের দিকে হয়তো নজর যায় না,
    সুতরাং প্রথমত সর্বদা অন্ত্র পরীক্ষা করবেন।
  • ERIC-এর Advice for Children with Constipation (কোষ্ঠকাঠিন্য আছে এমন সব
    শিশুদের জন্য পরামর্শ) ব্যাখ্যা করে যে কোন-কোন চিহ্নের দিকে নজর দেওয়া দরকার
    এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কী করা উচিত।

Image of bowels, one constipated and one normal - Bengali translation

কিছু শিশুদের দিনের বেলায় ও মূত্রথলির সমস্যা থাকতে পারে:

  • এতে হয়তো ঘন-ঘন প্রস্রাব করা/দ্রুত প্রস্রাব করার ইচ্ছা/দিনের বেলায় ওয়েটিং (জামা-কাপড় কিংবা বিছানা ভেজানো) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই’সমূহ) কারণেও বেড ওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) হতে পারে।
  • রাতের বেলায় থাকা সমস্যাগুলোকে পরীক্ষা করার আগে দিনের বেলায় মূত্রথলির সমস্যাসমূহের সমাধান করা দরকার। মূত্রথলি কীভাবে কাজ করে, এবং স্বাস্থ্যকর মূত্রথলির জন্য 4টি পদক্ষেপ অনুসরণ করে কীভাবে তার দেখাশোনা করতে হবে তা জানার জন্য ERIC-এর Advice for Children with Daytime Bladder Problems (দিনের বেলায় মূত্রথলির সমস্যা আছে এমন সব শিশুদের জন্য পরামর্শ) পড়ুন।

স্বাস্থ্যকর মূত্রথলি পরিচালনা এবং তার সত্ত্বেও জামা-কাপড় বা বিছানা ভিজে যাচ্ছে?

বেডটাইম চেকলিস্টের সময়:

  • তারা যেন দিনের বেলায় সঠিক পরিমাণে পানীয় পান করে তা সুনিশ্চিত করুন – প্রচুর পরিমাণে, বারে-বারে, এবং তারা কী পান করছে তার বিষয়ে বিবেচনা করুন – কিন্তু তার সাথে একটি ভালো বেডটাইম ড্রিন্কিং রুটিন নির্ধারিত করুন। প্রত্যেক রাতে, বেডটাইমের (ঘুমাতে যাওয়ার সময়‌) এক ঘণ্টা আগে পানীয় পান করা বন্ধ করে দিন, এবং তারপর সকাল অবধি আর পান করতে দেবেন না।
  • একটি ভালো বেডটাইম টয়লেটিং রুটিন অনুশীলন করবেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে তৈরি হওয়ার অংশ হিসেবে রিল্যাক্স করে টয়লেটে বসার জন্য একটি সময় নির্ধারিত করুন এবং যদি তারা এর ½ ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় পর ঘুমাতে যাচ্ছে তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেকবার টয়লেটে নিয়ে যাবেন।
  • ন্যাপিজ ছাড়া ট্রায়ল করুন। ন্যাপিগুলো সর্বদা ভেজা থাকার সত্ত্বেও, অন্তত এক সপ্তাহের জন্য, আর আদর্শভাবে দুই সপ্তাহের জন্য ন্যাপি না পরানোর চেষ্টা করুন নতুবা আপনার শিশু প্রস্রাব করার সময় কখনই ভেজা অনুভব করবে না। হয়তো তাদের উঠে পড়ার জন্য ভেজা অনুভব করা সবচেয়ে ভালো ট্রিগার হতে পারে।
  • বিছানাটিকে সুরক্ষিত রাখুন। যদি আপনার সন্তান খুব বেশি বিছানা ভেজায় তাহলে একটি ওয়াটারপ্রুফ ম্যাট্রেস কভার, আর একটি ওয়াটারপ্রুফ ডুভে ও পিলো প্রোটেক্টর কিনে বেড-ওয়েটিং সম্পর্কিত উদ্বেগ ও চাপ দূর করুন। প্রস্রাবটি যাতে না ছড়ায় তার জন্য একটি শোষক শিট ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ধরনের বেডিং প্রোটেকশনের জন্য ERIC-এর online shop (অনলাইন দোকান) দেখুন।
  • আপনার সন্তানের ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিন – লাইটগুলোকে কমিয়ে দিয়ে একটি বই পড়ে কিংবা গান শুনে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিন। কোনো স্ক্রিন নয় – সুতরাং ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে কোনো টিভি, আইপ্যাড, কম্পিউটার গেমস নয়, নতুবা মস্তিষ্ককে ভুল বার্তা পাঠানো হবে।
  • আপনার শিশুকে অভ্যাস করতে শেখান যে রাতের বেলায় ঘুম থেকে উঠলে তারা কীভাবে নিজে-নিজে টয়লেটে যেতে পারেন। একটি হালকা নাইট লাইট কিংবা টর্চ সম্পর্কে বিবেচনা করুন যাতে খুব বেশি অন্ধকার না হয়।
    তাদের কি বাথরুমে যাওয়া উচিত নাকি তাদের বেডরুমে একটি পটি/বালতি/বোতল ব্যবহার করা উচিত? তারা কি বাঙ্ক বেডে ঘুমায়? সুনিশ্চিত করবেন যে তারা যেন নিচের বাঙ্কে ঘুমায়। পায়জামা ওঠানো ও নামানো এবং ভিজে গেলে তাদের জামা-কাপড় বদলানোর অভ্যাস করুন।
  • কোলে তুলে নিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলুন – অন্য কথায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার সন্তানকে ঘুম থেকে তুলবেন। কোলে করে তুলে নিয়ে গেলে হয়তো বিছানা শুকনো থাকতে পারে কিন্তু এটা শিশুকে ঘুমে প্রস্রাব করতে প্রণোদিত করে সুতরাং তারা সত্যিই ঘুম থেকে ওঠে না।
  • এই পথে প্রত্যেকটি পদক্ষেপে পুরস্কার দিন – যেমন সঠিকভাবে পানীয় পান করা, রাতের বেলায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রস্রাব করা, এবং রাতে টয়লেট ব্যবহার করা।

যদি 4 steps to a Healthy Bladder (স্বাস্থ্যকর মূত্রথলির জন্য 4টি পদক্ষেপ) অনুসরণ করা আর বেডটাইম চেকলিস্ট ব্যবহার করে একটি খুবই ভালো বেডটাউম রুটিন অনুশীলন করার সত্ত্বেও বেড-ওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) চলতে থাকে তাহলে আপনাকে জিপি কিংবা বেডওয়েটিং ক্লিনিক নার্সের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। 5 বছর বয়স থেকে চিকিৎসা উপলব্ধ রয়েছে।

বেডওয়েটিং আর কোন কারণে হতে পারে?

প্রস্রাব পেলে ঘুম থেকে ওঠা কিছু শিশুদের জন্য সত্যিই কঠিন হয়।

তারা যে খুবই গভীর ঘুমে রয়েছে তার জন্য নয় – এটার কারণ হচ্ছে যে তাদের মস্তিষ্ক ঘুমের সময় একটি ভরা মূত্রথলির সংকেত সনাক্ত করতে পারে না। এটাকে প্রায়শই “পুআর অ্যারৌসেবিলিটি” মানে উপযুক্তভাবে ঘুম থেকে না উঠতে পারা বলা হয়।

আমি কীভাবে জানতে পারব?

  • ভেজা থাকার সত্ত্বেও শিশু ঘুমোতে থাকে
  • রাতের বেলায় পরের দিকে ওয়েটিং (বিছানা ভেজানো) হয়
  • মাঝারি আকারের ভেজা প্যাচ
  • স্বাভাবিক ঘনীভূত মূত্র

কিছু শিশুরা খুবি বেশি ভিজিয়ে ফেলে।

আমরা সকলে – রাতের বেলায় - ভ্যাসোপ্রেসিন নামক একটি বিশেষ হরমোন তৈরি করি। এটা আমাদের ঘুমিয়ে থাকাকালীন সময় আমাদের বৃক্কগুলোকে কম প্রস্রাব বানাতে বলে। কিছু শিশুরা এখন অবধি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাসোপ্রেসিন তৈরি করে না যাতে তাদের বৃক্কগুলো খুব বেশি তরলিত প্রস্রাব বানায় – যেটা এতোটা বেশি যে সেটা তাদের মূত্রথলির মধ্যে ফিট করে না।

আমি কীভাবে জানতে পারবো?

  • ঘুমাতে যাওয়ার পর প্রথম 2-3 ঘণ্টার মধ্যে ওয়েটিং
  • বড় পরিমাণে ওয়েটিং
  • তরলিত প্রস্রাব

কিছু শিশুদের মূত্রথলি পর্যাপ্তভাবে প্রসারিত হয় না যাতে রাতের বেলায় উৎপন্ন প্রস্রাবকে ধরে রাখা যেতে পারে।

আমি কীভাবে জানতে পারবো?

  • রাতের বেলায় একাধিকভাবে বিছানা ভেজানো
  • হয়তো বিছানা ভেজানোর পর ঘুম থেকে উঠে পড়তে পারে
  • স্বল্প পরিমাণে ভেজানো
  • স্বাভাবিকভাবে ঘনিভূত প্রস্রাব

কিছু শিশুরা এর মধ্যে একাধিক কারণে বিছানা ভেজায়।

মূল্যায়ন

  • অন্তত এক সপ্তাহের জন্য একটি Night Time Diary (রাতের বেলার ডায়েরি মানে নাইট টাইম ডায়েরি) রাখুন। তাদের ওয়েটিং-এর (বিছানা ভেজানো‌) বিবরণ দেখে আপনি জানতে পারবেন যে কোন প্রধান কারণে আপনার সন্তান বিছানা ভেজাচ্ছে।
  • অ্যাপয়েন্টমেন্টে ডায়েরিটিকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। ডাক্তার কিংবা নার্স আরও অনেক প্রশ্নসমূহ জিজ্ঞাসা করবেন, যাতে তারা জানতে পারেন যে আপনার শিশু কি কোনো রাতে বিছানা ভেজায় নি, তাদের মূত্রথলি দিনের বেলায় কেমন কাজ করে, তারা কত ঘন-ঘন মলত্যাগ করে ইত্যাদি।
  • তারা জিজ্ঞাসা করবেন যে বিছানা ভেজানোর কারণে আপনার শিশু কতোটা উদ্বিগ্ন অনুভব করে। রাতের বেলায় শুকনো থাকার দিকে কাজ করতে পরিশ্রম লাগে; এবং সাফল্য অর্জন করার জন্য শিশু ও বাবা-মা উভয়কে প্রণোদিত থাকতে হবে।

নির্দিষ্ট চিকিৎসাসমূহ

বেডওয়েটিং অ্যালার্ম: ‘ঘুম থেকে উপযুক্তভাবে উঠতে না পারার’ জন্য আদর্শ চিকিৎসা হবে একটি বেডওয়েটিং অ্যালার্ম। বেডওয়েটিং অ্যালার্মগুলোতে একটি সেনসর থাকে যেটা ভেজানো শুরু হওয়া মাত্রই তা সন্ধান করতে পারে। এতে একটি অ্যালার্ম বেজে ওঠে যেটা শিশুকে (এবং/অথবা বাবা-মা কে) ঘুম থেকে তুলে দেয়।

ঘুম থেকে উঠে পড়ার কারণে মূত্রথলির পেশীগুলো আঁটসাঁট হয়ে যায় সুতরাং শিশু প্রস্রাব করা বন্ধ করে দেয়। সময়ের সাথে-সাথে, শিশু এই অ্যালার্মটি বাজার সাথে একটি ভর্তি মূত্রথলির অনুভূতি এবং উঠে টয়লেটে যাওয়ার চাহিদাকে সম্পর্কিত করবে।

তারপর তারা অ্যালার্ম ছাড়া সেই সংকেতের দিকে সাড়া দিতে শিখবেন; তারা হয় টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে পড়বে নতুবা মূত্রথলির পেশীগুলোকে ধরে রাখতে এবং সকাল অবধি অপেক্ষা করতে বলবেন।

বেডওয়েটিং অ্যালার্মগুলো আপনি হয় আপনার স্থানীয় ক্লিনিক থেকে ধার পেতে পারেন কিংবা আপনি সেটাকে ERIC-এর online shop (অনলাইন দোকান) থেকে ক্রয় করতে পারেন। উন্নতি সাধন নিরীক্ষণ করার জন্য একটি Bedwetting Alarm Diary (বেডওয়েটিং অ্যালার্ম ডায়েরি) ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডেসমোপ্রেসিন: আপনার শিশুর ভ্যাসোপ্রেসিন কম থাকলে সেটাকে পরিপূর্ণ করার জন্য ডেসমোপ্রেসিন নামক একটি ওষুধ নেওয়া যেতে পারে। এটাকে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক কিছু ক্ষণ আগে নেওয়া হয় এবং এটা বৃক্কগুলোকে 8 ঘণ্টার জন্য কম মূত্র তৈরি করতে বলে, সুতরাং মূত্রথলি সেটাকে সকাল অবধি ধরে রাখতে পারবে।

ঘুমোনোর এক ঘণ্টা আগে নিলে এটা আরও কার্যকর হবে কেননা শিশু ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়া কালীন এটা মূত্র তৈরি করার গতি কে ধীর করার উপর কাজ করা শুরু করে দেবে।
এর সাথে অনুসরণ করার জন্য কড়া নিয়ম রয়েছে, যেমন এটা নেওয়ার এক ঘণ্টা আগে পানীয় পান করা বন্ধ করে দিতে হবে, এবং এটা নেওয়ার 8 ঘণ্টা পর অবধি কোনো পানীয় পান করা যাবে না। চলমান চাহিদা মূল্যায়ন করার জন্য প্রতি 3 মাস অন্তর এক সপ্তাহের জন্য ওষুধটিকে বিরতি দেওয়া দরকার।

অতিরিক্ত ক্রিয়া: যদি মূত্রথলি পর্যাপ্তভাবে প্রসারিত না হয়, এবং শিশু ঘন-ঘন স্বল্প মাত্রায় প্রস্রাব করতে থাকে, তাহলে প্রথমে কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। তারপর সুনিশ্চিত করুন যে শিশু সঠিকভাবে পানীয় পান করছে।

স্থায়ী উপসর্গসমূহ হয়তো অতিরিক্ত ক্রিয়ার কারণে দেখা দিচ্ছে যেখানে মূত্রথলি চাহিদা না থাকলেও চাপের সৃষ্টি করতে থাকে। এর জন্য ব্যবহৃত চিকিৎসা হচ্ছে অক্সিবিউটিনিন কিংবা টলটেরোডিন নামক একটি ওষুধ।

সমন্বিত চিকিৎসা: একাধিক কারণে বিছানা ভেজায় এমন শিশুদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা দরকার হতে পারে।

সবচেয়ে সেরা সম্ভব চিকিৎসা নির্বাচিত করা দরকার। তারপর যদি বিছানা ভেজানো চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং আবার Night Time Diary (নাইট টাইম ডায়েরি) রাখা দরকার। তারপর আরেকটি চিকিৎসা যোগ করা যেতে পারে।

আরও তথ্য

Last Reviewed: January 2024

Next Review: January 2027

On this page...

    Upcoming events

    Share this page